Home / লাইফ-স্টাইল / গরম খাবার প্লাস্টিকে ভরছেন; হতে পারে মারাত্মক বিপদ
image: google

গরম খাবার প্লাস্টিকে ভরছেন; হতে পারে মারাত্মক বিপদ

আপনি কি কোন কারণে ডাল, ভাত, তারকারি কিংবা মাছ, মাংসের ঝোল সব কিছুই সহজে বহন করা যায় প্লাস্টিকের ক‌্যারি ব‌্যাগে। এদিকে প্ল‌্যাস্টিকের ব‌্যবহার কমাতে দোকানে প্লাস্টিক প‌্যাকেটের উপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হচ্ছে, কোনও কোনও রাজ্যে প্লাস্টিক পুরো ব‌্যানড। তবু সুযোগ পেলেই আমরা প্লাস্টিকে জিনিস বহন করার পাশাপাশি খাবার জিনিসও বহন করি। যা মোটেও ঠিক নয়। কেননা এই প্লাস্টিকে গরম খাবার বহন করা থেকে হতে পারে মারাত্মক রোগ!

এতে করে একদিকে যেমন খাবার গড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে না তেমনই খুব সস্তা ও সহজলভ‌্য এই প্লাস্টিক। এতো গেল ভাল কথা। চোখে দেখা না গেলেও প্লাস্টিকের ক্ষতির ভাগটা ভালর চেয়ে ৩গুণ।  এখনি সাবধান না হলে পরে আপসোসের সীমা থাকবে না আপনার।

সাধরণত প্লাস্টিক একটি বৃহৎ গঠন যা পলিমার অনুর সমন্বয়ে গঠিত। বিভিন্ন রকমের প্লাস্টিক যেমন: পিভিসি, পলিপ্রোপাইলিন, পলিকার্বোনেট ইত্যাদি তৈরী হয় বিভিন্ন অনুপাতে মোনোমার অনুর সংযোজনে গঠিত হয়ে থাকে এই প্লাস্টিক। কিন্তু দেখা গিয়েছে অনেক প্লাস্টিক বা পলিমার নিজেরা বিষাক্ত না হলেও সেগুলি যে মোনোমারের সংযোজনে তৈরি হয় তা খুবই বিষাক্ত হয়।

কেননা প্লাস্টিক পুরনো হলে, শক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে ঘষা লাগলে ও সস্তার প্লাস্টিক প‌্যাকেটে বা পাত্রে গরম খাদ্য দিলে এই বিষাক্ত মোনোমারগুলি প্লাস্টিক থেকে ঠিকই বেরিয়ে খাবারে মেশে। অজান্তেই সুস্বাদু খাবার বিষাক্ত হয়ে যায়। ইউরোপ এবং আমেরিকায় বিভিন্ন প্লাস্টিকে নম্বর দেওয়া থাকে। যার ভিত্তিতে বোঝা সহজ যে কোন প্লাস্টিকটা নিরাপদ। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ নেই, একমাত্র ভরসা সাবধানতা কিংবা সচেতনতা।

দেখা যায় যে, বিসফেনল এ শক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে, বিভিন্ন পাত্রে প্লাস্টিকের পাতলা স্তর এ এই ক্ষতিকর মোনোমার থাকে। এই মোনোমার একটি কৃত্রিম ইস্ট্রোজেন হরমোন, যা শরীরে প্রবেশ করলে শরীরে উপস্থিত ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। যাকে বলে হরমোন ডিসরাপ্টার।

যপারফলে মহিলাদের স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া বিপিএ গর্ভবতীর ভ্রূণের মস্তিষ্কের উন্নতির উপরও প্রভাব ফেলে। ২০১৮ সালে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে গর্ভবতী মহিলাদের প্রস্রাবে বিপিএ এর মাত্রা বেশি তাদের মধ্যে যারা কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন সেই শিশুরা ৩ বছর বয়স থেকে হাইপার অ‌্যাকটিভিটি, দুশ্চিন্তা এবং অবসাদসহ আরও নানা প্রকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়।

রোস্তোরায় যে ধরনের পাত্র পার্সেলের জন‌্য ব‌্যবহার করে, পলিএস্টারের ফোমের কাপে এই ধরনের মোনোমার থাকে। এই মোনোমার আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার মধ্যে প্রধান লক্ষণগুলি হল- মাথাব্যথা, কমজোরি, অবসন্নতা, অবসাদ, বধিরতা ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ইত্যাদি।

এছাড়া এই মোনোমারে কিডনি, গলার ক্যানসার এবং বন্ধ্যত্বের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের কিং জর্জ সরকারি হাসপাতালে এই তিনটি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ‌্যা বৃদ্ধির পিছনে প্লাস্টিকে গরম খাবার খাওয়ার অভ্যেসটাই মূল দায়ী করেন চিকিৎসকরা। এমনই তথ‌্য মিলেছে। সুতারাং, প্লাস্টিক কোনভাবেই নিরাপদ নয় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য।

আপনি নিজে সচেতন হোন অন্যকে সচেতন করতে সহায়তা করুন। কেননা বিজ্ঞান বলছে, প্লাস্টিকে খাবার পরিবহন করা কোনভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত নয় বরং শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি!

Check Also

সচেতন মানুষরা যে ভুলগুলো ২য় বার করে না

জীবনে চলার পথে ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এসব ভুল একবার করার পরেই আমাদের সতর্ক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!