Monday , September 16 2019
Home / লাইফ-স্টাইল / গাড়িতে উঠলে বমি পায়? সমাধান জেনে রাখুন
গাড়িতে চড়লে বমি
image source: news18.

গাড়িতে উঠলে বমি পায়? সমাধান জেনে রাখুন

গাড়িতে চড়লে বমি বমি ভাব হয় কিংবা বমি পায় আপনার? আপনি শুধু একা নন এ দলে রয়েছেন অনেকে । প্রবল মাথার যন্ত্রণা বা বমি ভাবে জ্বালায় অনেকে এ যানবাহন হতে দূরে থাকে। সারা বছর আলাদা করে হজম সংক্রান্ত কোন সমস্যা না থাকলেও গাড়ি একটু গতিতে চললে এমনটা হয়। দূরের কোন ভ্রমণে তাই অনেকেরই ট্রেন ছাড়া গতি থাকে না। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়িতে চড়লে তো এই সমস্যা হু হু করে বাড়তেই থাকে।

কিন্তু কেন এমন হয় জানেন? অন্য সময় স্বাভাবিক থাকলেও নিদৃষ্ট একটি গতির মধ্যে যানবহন থাকলে এমনটি হয়।

ডাক্তারদের ভাষ্য অনুসারে, মানুষেরর শরীরের ৩টি গতির অংশ নির্ণয় করে থাকে। চোখ, অন্তঃর্কণ ও ত্বক। এই তিনটি অংশকে সেনসরি রিসেপ্টর বলা হয়ে থাকে। এরাই এই গতির অনুভূতিকে পাঠিয়ে দেয় মস্তিস্কে। এই সেনসরি রিসেপ্টরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসামঞ্জস্য থাকলে তখনই এমন মোশন সিকনেস এর সমস্যা হয়ে থাকে।

সবার মধ্যে এই মোশন সিকনেসের মধ্যে গোলযোগ দেখা দেয় না বলে সবারই বমি হয় না কিংবা পায় না। তবে, ডাক্তারদের মতে , এই অসুখ কিছুটা যেমন শরীরবৃত্তীয় তেমন কিছুটা মানসিকও বটে। পূবের্র অভিজ্ঞতা ভালো না হওয়ায় গাড়িতে ওঠার আগেই একটি প্যানিক সিকনেস হয় এবং তার প্রভাব পড়ে।

এক নজরে বমি এড়াতে যা করবেন:

১। গাড়িতে চড়েলে কোনও রকম অসুবিধে হবে না , মনকে এটাই বোঝান আগে। এই শারীরবৃত্তীয় সমস্যাকে দূর করতে সবার আগে চাই মানসিক শক্তি।

২। গাড়িতে বসে সমানের কাঁচের দিকে বা গাড়ির মধ্যে যন্ত্রপাতির দিকে না তাকিয়ে রাস্তা, বাইরের মানুষ ও প্রকৃতির দিকে তাকান। চোখ অন্তঃকর্ণ এতে আরাম পাবে। যাত্রার বিপরীতেও দেখবেন না। এতে সেনসরি অঙ্গের অসামঞ্জস্যতা আসতে পারে।

৩। একটানা গাড়িতে বসে থাকবেন না। মাঝে মধ্যে নামুন। ব্যক্তিগত গাড়ি না হলে দীর্ঘপথ ভ্রমণের জন্য যেতে হলে এই ভ্রমণকে ২/৩ ভাগে ভাগ করে নিন। এমনিতেও দীর্ঘযাত্রার পথকে বাসগুলি ২/৩ ভাগে ভাগ করে নেয়। এই বিরতির সময় আপনি নেমে একটু হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।

৪। ডিজেল, পেট্রল ও মবিলের গন্ধে এড়াতে ব্যাগে সুগন্ধি রাখুন। মাঝে মাঝে তা নিজের শরীরে স্প্রে করুন। ব্যাগে কয়েকটি লেবু পাতা রাখুন, যখন গাড়িতে চড়বেন তখন নাকের কাছে মাঝে মাঝে ধরুন লেবুর পাতা। এতে করে গা গোলানের সমস্যা অনেকাংশ কমে যাবে।

৫। গাড়িতে বসে ভুলেও মোবাইল নাড়াচাড়া করবেন না। মোবাইরের রশ্মি থেকেও বমি ভাব বাড়ে।

৬। কম ঝাঁকুনির সিট বেছে নিন। অথাৎ সামনের দিকের সিটে বসুন। এতে সমস্যা অনেকটা কম হবে।

৭। নিঃশ্বাসের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করুন। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে খুব আস্তে আস্তে ছাড়ুন।

৮। নিজের মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে বই পড়ুন কিংবা হালকা সুরের গান শুনতে পারেন। গান-বাজনার প্রভাব থাকলে খুব বেশি থাকলে মস্তিস্কে বিরুপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই শান্ত ও সুরেলা গান শুনুন।

ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্র: সংগ্রহীত।

Check Also

হৃদরোগ প্রতিরোধ

হৃদরোগ প্রতিরোধে ডা. দেবি শেঠির পরামর্শ

সারা বিশ্বে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ রোগ রোগে মৃত্যুবরণ করছে! যা আমাদের জন্য এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *