Home / স্বাস্থ্য / ডায়াবেটিস হতে দ্রুত মুক্তির উপায়
diabetes
image source: cbsnews

ডায়াবেটিস হতে দ্রুত মুক্তির উপায়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা কত কিছুই না করি। আর এ কারণে প্রতি সপ্তাহে ৪/৫ বার ব্যয়াম করা, শরীরের আদর্শ ওজন বজায়, মানসিক চাপ বিনোদনে রুপান্তর করা, যা রক্তে গ্লুকোজরে মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হিসেবে প্রাকৃতিক উপদানের তুলনা হয় না। বিশেষ করে রসুন, করলা, মেথি এসব তরকারি বেশি বেশি খাওয়া জরুরী।

মানব শরীরের জীবনচক্রের একটি সার্বজনীন স্তর হলো বার্ধক্য। ওয়ার্ল্ড হেলস ওগার্নাইজেশন এর তথ্য মোতাবেক ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ১১/১২% হবে প্রবীণ। আমাদের দেশসহ বিশ্বব্যাপি ক্রমবর্ধমান প্রবীণদের নানাবিধ সমস্যাগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে কয়েক দশক হতে।

বিশেষ করে প্রবীণদের মধ্যে এই স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো ডায়াবেটিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের রোগে মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস হবে ৫ম স্থানীয়র রোগ। তাহলে একটি বার ভাবুন যে ডায়াবেটিস কত মারত্মক আকার ধারণ করছে।

মূলত ডায়াবেটিস হচ্ছে রক্তে ইনসুলিন এর অভাব বা রক্তে ইনসুলিন কার্যকারিতা হারায়। ডায়াবেটিস কয়েক প্রকারের রয়েছে টাইপ ১ ডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, যুবকদের ডায়াবেটিস, শিশুদের ডায়াবেটিস। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কমন ও বয়সকালে যে ডায়াবেটিস হয় তা হলো টাইপ ২ ডায়াবেটিস। যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত দু:খজনক।<

এনআইডিডিএম বলা হয় টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ও আমিষ জাতীয় খাবার বিপাকে গোলমাল দেখা যায়। মানব শরীরের কোষ কলার রক্তে ইনসুলিনের অকার্যকারিতা বা এর অভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে না পারায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে নানা প্রকার জটিলতার আকার ধারন করে ।

আমাদের দেশসহ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৮১% মানুষ ডায়াবেটিস নিয়ে বসবাস করছে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস জীবনধারা বা অসম জীবনযাপনজনিত রোগও বলা হয়ে থাকে।

অপরিমিত খাবার, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, অলস জীবনযাপন, অপরিমতি ঘুম, ধূমপান, সাদাপাতা, জরদা, মানসিক দুশ্চিন্তা, দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগে ভোগা, ওষুধের পাশ্বর্ প্রতিক্রিয়া, পারিবারিক ইতিহাস ও সর্বপরি শরীরে অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডায়াবেটিস টাইপ ২ হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের প্রধান লক্ষ্য হবে ডায়াবেটিস হওয়ার মূল কারণ সনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা। আগেও বলা হয়েছে যে ডায়াবেটিস যেহেতু জীবনধারা ও খাদ্যাভাসজনিত রোগ, তাই শৃঙ্খলিত জীবনযাপনই এ রোগ প্রতিরোধের উপায়। এছাড়াও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা, পরিমিত ঘুম, ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে খাবার না খাওয়া, চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, ফলমূল ও শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া, পানি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি বেশি করে খাওয়া।

প্রতিদিন নিয়মিত করে ব্যয়াম করা। শরীরের ওজন বজায় রাখা, মানসিক চাপ বিনোদনে রুপান্তর করা, যা রক্তে গ্লুকোজরে মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধক হিসেবে অসাধারণ কাজ করে থাকে রসুন, করলা ও মেথি। তাই এই উপকরণ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

এছাড়াও নিয়মিত কাঁচা করলার রস সকালে ও রাতে খেতে হবে কিংবা কালো জামের বীচি গুড়ো করে প্রায় ৩ গ্রাম পরিমান পানিসহ দিনে ২ বার খাবেন। রসুন ও মেথি জাতীয় ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি ইউনানী ওষুধ খেতে পারেন।

আসুন আমরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সচেতন হই।

তথ্য ও ছবি: সংগ্রহীত।

Check Also

হার্ট অ্যাটাক এড়াতে নিয়মিত খান এই খাবারগুলি

নানা প্রকার শারীরিক জটিল সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক অন্যতম। শরীরে কোলেস্টেরলের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!