Saturday , August 24 2019
Home / স্বাস্থ্য / স্বর্গীয় ফল কাঁকরোল খাওয়ার উপকারিতা
কাঁকরোল
image source: deshebideshe

স্বর্গীয় ফল কাঁকরোল খাওয়ার উপকারিতা

কাঁকরোল প্রায় কিছুটা ছোট কাঁঠালের মত দেখতে কাঁটা কাঁটা সবুজ রংয়ের একটি সবজি। কাঁকরোল মূলত গ্রীষ্মকালীন একটি সবজি। কাঁকরোল তরকারি, ভাজি কিংবা সিদ্ধ করে ভর্তা হিসেবে খাওয়া হয়। কাঁকরোলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ মিনারেল , ফাইবার, কাবোর্হাইড্রট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ড, লুটেইন ও জেন্থানিনসহ আরও বিভিন্ন প্রকার খনিজও এবং ভিটামিন উপাদান। যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বর্পূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান যে, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়েও প্রায় ৭০% বেশি লাইকোপেন রয়েছে, গাজরের চেয়েও প্রায় ২০% বেশি বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, কমলার চেয়েও প্রায় ৪০ % বেশি ভিটামিন সি রয়েছে এবং ভুট্টার চেয়েও প্রায় ৪০% বেশি জিয়াজেন্থিন রয়েছে। তাই প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কাঁকরোল রাখা আবশ্যক।

এক নজরে দেখে নিন কাঁকরোলের উপকারিতা:

১। সম্প্র্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত যে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরাধে সহায়তা করে থাকে ও ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির গতিকে কমিয়ে দিতে সক্ষম। এতে নিদৃষ্ট একটি প্রোটিন থাকে যা ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে সক্ষম। আর কাঁকরোলের এ বিশেষ ক্ষমতার জন্য একে স্বর্গীয় ফল বলা হয়।

২। যাদের কোলেস্টেরেল এর মাত্রা বেশি কিংবা যাদের রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল আছে তারা নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। কাঁকরোল উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সক্ষম।

৩। কাঁকরোলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড রয়েছে। এ জন্য কাঁকরোল নিয়মিত খেলে এটি অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে থাকে। ফলে রক্ত শূন্যতার হাত হতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

৪। কাঁকরোল কাডির্ওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম কারণ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সক্রিয় ও সুস্থ্য জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদরোগীদের জন্য দারুন উপকারী।

৫। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁকরোলে প্রায় ৪০% ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের অতিরিক্ত মেদ পুড়িয়ে ফেলতে সহায়ক, রক্তে ভিটামিন সি এর পরিমাণ কম থাকলে ফ্যাট বানিং কম হয়। ফলে শরীরের ওজন কমে, শরীরের অতিরিক্ত মেদও কমে যায়। যাদের রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমানে ভিটামিন সি আছে তাদের ফ্যাট বানিং হয় প্রায় ২৬%। ফলশ্রুতিতে তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা মোটেও থাকেনা।

৬। কাঁকরোলে রয়েছে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ফলে এটি বিষন্নতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সহায়ক কাঁকরোল।

৭। চোখের স্বাস্থ্যের জন্য কাঁকরোল দারুন উপকার। বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য উপদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতির পাশাপাশি চোখের ছানি পড়া প্রতিরোধওে দারুন কার্যকর।

৮। এক গবেষণায় প্রমাণিত যে, যাদের শরীরে লাইকোপেনের মাত্রা বেশি তাদের চেয়ে যাদের শরীরে লাইকোপেনের মাত্রা কম তাদের শতকরা প্রায় ৫০% বেশি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে এবার বুঝতে বাকি নেই যে কাঁকরোল হৃদযন্ত্রেরও উপকার করে থাকে।

৯। স্ট্রেস কমানো ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সহায়তা করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুননির্মানের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে থাকে। ফলে অতি সহজে তারুন্য ধরে রাখা সম্ভব।

১০। গর্ভবতী মায়েদের জন্য কাঁকরোল বেশ উপকারী। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় মায়েদের স্নায়ুবিক ত্রুটি দেখা দেয় সেময় কাঁকরোল খেতে পারলে এই স্নায়ুবিক দূর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তথ্য ও ছবি: সংগ্রহীত।

Check Also

পেঁপের বীজ

পেঁপের বীজের নানা উপকারিতা

পেঁপে একটি অসাধাণ ফল। এটি কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় রান্না করে খাওয়া ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!