Monday , September 16 2019
Home / স্বাস্থ্য / হেপাটিাইটিস বি ভাইরাস এর ভয়াবহতা
হেপাটিইটিস বি
image source: 123rf

হেপাটিাইটিস বি ভাইরাস এর ভয়াবহতা

হেপাটাইটিস বি এমন এক রোগ যার উপসর্গ সহজে প্রকাশ পায় না। আবার যখন প্রকাশ পায়, ততক্ষণে তা সারা দেহে সংক্রামিত হয়। হেপাটাইটিস বি এমনি এক জটিল সংক্রামক রোগ।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রামণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি দেখা দেয় যা লিভারের মারাত্মক সংক্রামণ ঘটাতে থাকে। এই রোগ রক্ত, বীর্য এবং শরীরের অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে ছাড়িয়ে পড়ে। বড়দের সংক্রামণ ভালো হলেও ছোটদের সংক্রামণ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বর্তমানে মানব শরীরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ভাইরাস হেপাটাইটিস এর যত দ্রুত সংক্রমণ ঘটেছে তার ভয়াবহতা এইডস এর চেয়েও খারাপ সংবাদ নিয়ে গোটা মানব জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হেপাটাইটিস বা লিভারের একিউট এবং ক্রনিক সংক্রমণের জন্য দায়ী লিভার ভাইরাসগুলো হলো হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস ডি এবং হেপাটাইটিস ই।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণের লিভারে প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই রোগ হতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই ভাইরাস সাধারণত নবজাতক সন্তানদের শরীরের সংক্রমিত হয়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, এইডিস রোগের চেয়েও ১০০% বেশি সংক্রামক। দিনে দিনে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একনজরে হেপাটাইটিস এর উপসর্গ: আক্রান্ত ব্যক্তির কোন উপসর্গ নাও থাকতে পারে। রোগের সুপ্তাবস্তা (ভাইরাস সংক্রামণ থেকে রোগের লক্ষণ পর্যন্ত) প্রায় ৪ হতে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্লু এর মতো জ্বর, ক্লান্তি, শরীর টনটন, ব্যথা, বমিভাব এবং ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ।

এক নজরে যাঁরা এই রোগের ঝুঁকিতে আছেন:

১। রোগাক্রান্ত মায়েদের নবজাতকরা।

২। ইনজেকশন দিয়ে যারা নেশা গ্রহণ করে।

৩। আক্রান্ত পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিজনেরা এবং তার সঙ্গী বা সঙ্গিনী।

৪। স্বাস্থ্য সেবায় নিয়জিত কর্মীরা বিশেষ করে যারা রক্তের সংস্পর্শে কাজ করেন। যেমন: সার্জন, শল্য পেশায় নিয়জিত চিকিৎসক, ডায়ালিসিস ইউনিট, প্যাথলজি বিভাগের কর্মীরা ও দাঁতের ডাক্তার এবং নার্সদের।

৫। অনিরাপদ যৌন মিলন।

এক নজরে হেপাটাইটিস বি রোগ প্রতিরোধে করণীয়:

১। যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার।

২। শাক সবজি, স্যালাদ, ফলমূল বেশি খাবেন।

৩। তেল ও ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করবেন।

৪। মাটন খাবেন না।

৫। লবণ যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৬। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যয়াম করুন।

৭। ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে, রুটি খাওয়ার অভ্যাস করুন। দিনে এক বেলার বেশি ভাত না খাওয়াই উত্তম।

৮। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন।

৯। HBsAG পরীক্ষা করুন এবং যথাসম্ভব দ্রুত হেপাটাইটিস বি প্রতিষেধক এর টিকা নিন।

এসব নিয়ম মেনে চললে অনেকাংশে এই ভয়ানক রোগকে ঠেকাতে পারবেন।

ধন্যবাদ।

তথ্য: সংগ্রহীত।

Check Also

দ্রুত মেদ কমানের উপায়

শরীরের মেদ দ্রুত ঝড়ানোর টিপস

খেতে আপনি নিশ্চয়ই ভালোবাসেন? হ্যাঁ আপনিও খেতে ভালোবাসেন আমিও ভালোবাসি। আর আজকের দিনের ট্রাডিশনাল রান্নার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *